খাবার-ব্যবসার মানচিত্র — সুযোগ ও মডেল
এই অধ্যায় শেষে আপনি পারবেন: বাংলাদেশের খাবার-বাজারটা পাখির চোখে দেখে বুঝতে — কোথায় টাকা ঘোরে, কোন সাব-নিশে কম পুঁজিতে ঢোকা যায়, কোনটা পুঁজি-গিলে-খাওয়া ফাঁদ, আর কে জেতে কে হারে; এবং সাতটা খাবার-মডেলের ভেতর থেকে আপনার নিজের জন্য একটা বেছে নিতে — কাগজে-কলমে, এই সপ্তাহেই।
একটা জরুরি কথা শুরুতেই, ছোট ভাই। এই বই (বই ১৭) খাবার-সেক্টরের গভীর জ্ঞান দেয় — এটা সাধারণ পদ্ধতি আবার শেখায় না। আইডিয়া যাচাই, পজিশনিং, ইউনিট-ইকোনমিক্স, মার্কেটিং, পুঁজি-টায়ার, ভৌত-সেটআপ — এসব মূল ৯ বইয়ে আছে, আর আমি দরকারমতো সেখানে পাঠিয়ে দেব ("বই N (নাম)-এর '<শিরোনাম>' অধ্যায়")। এখানে আমরা শুধু একটা প্রশ্নে ডুব দেব: খাবার-ব্যবসায় ঢুকব, কিন্তু কোন দরজা দিয়ে?
এই অধ্যায়ে আপনার সঙ্গী থাকবেন রায়হান (কাল্পনিক)। বয়স ২৭, থাকে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে। দুবাইয়ের এক রেস্তোরাঁয় ৪ বছর শেফ-হেল্পার ছিলেন, দেশে ফিরেছেন সঞ্চয় ৳২,২০,০০০ নিয়ে। রান্না ভালো জানেন, খাবার ভালোবাসেন, কিন্তু "রেস্তোরাঁ দেব" বলে যে বড় স্বপ্নটা দেখছেন — সেটা তাঁর পুঁজিতে আত্মহত্যা হবে কি না, এই অধ্যায়ে আমরা তাঁকে সেই সিদ্ধান্তের ভেতর দিয়ে নিয়ে যাব।
১. কেন খাবার — সবচেয়ে Lindy চাহিদা
বই ৭ (দীর্ঘমেয়াদি টেকসই)-এর 'Lindy ও চিরস্থায়ী চাহিদা' অধ্যায়ে আমরা একটা ধারণা গেঁথেছিলাম — Lindy Effect: যে জিনিস যত বেশি বছর টিকেছে, সেটা তত বেশি বছর টিকবে বলে আশা করা যায়। খাবার এই পরীক্ষায় সবার আগে পাস করে।
মানুষ দিনে তিনবার খায় — প্রতিদিন, সারা জীবন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম। কোনো অ্যাপ এসে এটা বদলাবে না, কোনো ট্রেন্ড এসে এটা মুছবে না। বই ২ (ভিত্তি ও যাচাই)-এর 'ফাউন্ডার-মার্কেট ফিট' অধ্যায়ে যে তিন শর্তের কথা বলেছিলাম — Painkiller (জ্বালা দেয়), Frequent (ঘনঘন ফেরে), Payable (টাকা দিয়ে সমাধানযোগ্য) — খাবার তিনটাতেই পাঁচে পাঁচ। ক্ষুধা ভিটামিন নয়, painkiller; দিনে তিনবার মানে frequency-র রাজা; আর সবচেয়ে গরিব মানুষও খাবারে টাকা দেয়।
কিন্তু এই Lindy-শক্তিরই একটা অন্ধকার পিঠ আছে, আর শুরুতেই সেটা সোজা বলে দিই — চাহিদা চিরস্থায়ী মানে এই নয় যে আপনার দোকানটা চিরস্থায়ী। ক্ষুধা টিকবে, কিন্তু আপনার নির্দিষ্ট ব্যবসা টিকবে কি না সেটা সম্পূর্ণ আলাদা প্রশ্ন। খাবার সবচেয়ে নিশ্চিত চাহিদা, আবার সবচেয়ে ভিড়ভরা ও কম-মার্জিনের সেক্টরগুলোর একটা। এই দুই সত্য একসাথে ধরে রাখাই এই অধ্যায়ের কাজ।
২. বাংলাদেশের খাবার-বাজার (যাচাই-করা, hedged)
কয়েকটা সংখ্যা দিই — কিন্তু সাবধান করে, কারণ বাজার-গবেষণা সংস্থাভেদে সংখ্যা অনেক ভিন্ন হয়, আর এগুলো দ্রুত বদলায়। এগুলো বাজারের আকার "অনুভব" করার জন্য, ব্যবসা-পরিকল্পনায় হুবহু বসানোর জন্য নয় — ছাপার আগে হালনাগাদ উৎস থেকে যাচাই করবেন।
- বাংলাদেশের foodservice (রেস্তোরাঁ + খাবার-সেবা) বাজার ২০২৪ সালে আনুমানিক $৩.৮ বিলিয়ন থেকে $৮.৮ বিলিয়ন — সূত্রভেদে এই বিশাল ব্যবধান (Mordor Intelligence ~$৩.৭৯B, কিছু সূত্র ~$৮.৮B)। প্রায় সব সূত্রই একমত যে বাজার দুই অঙ্কের হারে (~১৪%+ CAGR) বাড়ছে।
- শুধু ঢাকাতেই আনুমানিক ২৫,০০০ খাবার-আউটলেট আছে (সূত্র: industry report)।
- একটা পুরোনো পরিসংখ্যান (২০২১) অনুযায়ী সারা দেশে হোটেল-রেস্তোরাঁ ~৪.৩৬ লাখ, কর্মসংস্থান ~২২.৮ লাখ — সংখ্যাটা পুরোনো, তাই শুধু "বিশাল ও শ্রমঘন সেক্টর" বোঝার জন্য নিন।
- দ্রুততম-বর্ধনশীল অংশ দুটো: QSR (কুইক-সার্ভিস) আর ক্লাউড-কিচেন — অনলাইন অর্ডারের জোয়ারে ভেসে।
- অনলাইন ডেলিভারিতে এখন তিন প্রধান খেলোয়াড় — foodpanda, Pathao Food, HungryNaki (Uber Eats বাংলাদেশ ছেড়েছে)।