৮০/২০ নীতি
এই অধ্যায় শেষে আপনি পারবেন: নিজের ব্যবসার আসল ডেটা — কে কত কিনল, কোন পণ্যে কত লাভ, কোন কাজে কত ঘণ্টা গেল, কোন চ্যানেল থেকে কত অর্ডার এল — হাতে নিয়ে একটা ৮০/২০ অডিট চালাতে; খুঁজে বের করতে আপনার সেই অপরিহার্য ~২০% (গ্রাহক, পণ্য, সময়, চ্যানেল) যেটা আপনার ~৮০% লাভ আনছে, আর চিনতে সেই ~৮০% যেটা শুধু সময় খাচ্ছে কিন্তু সামান্য ফেরত দিচ্ছে। আপনি একটা ৳-সহ ভরাট অডিট গ্রিড নিজের হাতে দাঁড় করাবেন, একটা "কী বাড়াব / কী কমাব / কী বাদ দেব" সিদ্ধান্ত-তালিকা পাবেন, আর শিখবেন কীভাবে কম কাজ করে বেশি ফল তোলা যায় — খাটুনি বাড়িয়ে নয়, ঠিক জায়গায় খাটিয়ে।
এই বইয়ের পুরোটা জুড়ে আপনার সঙ্গী থাকবেন ফারিয়া (কাল্পনিক)। বয়স ৩০, একটা হোম-বেকারি আর একটা ফেসবুক পেজ চালান ঢাকার মিরপুরে। কেক, কুকি, কাপকেক, ব্রাউনি, পাউরুটি, ডেজার্ট বক্স — মেনুতে অনেক কিছু। বেকিং, ডেলিভারি সমন্বয়, কনটেন্ট বানানো, ইনবক্সে উত্তর — সব একা সামলান। দিনে ১৪ ঘণ্টা খাটেন, তবু আয় কয়েক মাস ধরে এক জায়গায় থমকে; পরিবারকে সময় দিতে পারেন না। এই অধ্যায়ে আমরা তাঁর "সব কাজ"-এর স্তূপ থেকে শুরু করে, তাঁর নিজের অর্ডার-ডেটা দিয়ে খুঁজে বের করব — কোন অল্পটুকু আসলে তাঁর ব্যবসাটা টানছে।
১. একটা চেনা দৃশ্য দিয়ে শুরু
রাত সাড়ে বারোটা। ফারিয়া (কাল্পনিক) রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে, হাতে একটা কাস্টম থিমের জন্মদিনের কেক — তিনতলা, ওপরে চিনির ফুল, পাশে নাম লেখা। কাস্টমার দরদাম করে দাম নামিয়েছেন, ডেলিভারি ফ্রি চেয়েছেন, আর সারাদিন ইনবক্সে দশবার ডিজাইন বদলেছেন। কেকটা বানাতে ফারিয়ার গেছে প্রায় ছয় ঘণ্টা। লাভ? হাতে এসেছে কয়েকশ টাকা।
ঠিক একই দিনে, একজন পুরোনো অফিস-ক্লায়েন্ট হোয়াটসঅ্যাপে এক লাইনে অর্ডার দিয়েছেন — "আগের মতো ৩০টা চকলেট ব্রাউনি, কাল সকালে অফিসে পাঠিয়ে দিও।" দরদাম নেই, ডিজাইন নিয়ে ঝামেলা নেই, এক ব্যাচেই হয়ে যায়। ওই ব্রাউনি বানাতে লেগেছে দেড় ঘণ্টা, আর লাভ ওই কাস্টম কেকের প্রায় সমান।
ফারিয়া দুটোকেই "একটা অর্ডার" ভাবেন। ডায়েরিতে দুটোই এক লাইন। কিন্তু একটা তাঁর সময় খেয়েছে আর আত্মাও শুষেছে; অন্যটা চুপচাপ লাভ দিয়ে গেছে। সমস্যাটা এই নয় যে ফারিয়া কম খাটছেন — তিনি অমানুষিক খাটছেন। সমস্যাটা হলো, তাঁর খাটুনি সব কাজে সমানভাবে ছড়ানো, অথচ ফল সব কাজে সমান নয়।
এই অসমতাটাই এই পুরো বইয়ের প্রাণ। আর এর সবচেয়ে পরিষ্কার নাম — ৮০/২০ নীতি।
পরিচয় করিয়ে দিই — ফারিয়া (কাল্পনিক)। তিনি পরিশ্রমী, গুণী, কাস্টমার তাঁর কাজ ভালোবাসে। কিন্তু তাঁর মাথায় একটাই হিসাব — "আরও বেশি অর্ডার = আরও বেশি আয়।" তাই তিনি কোনো অর্ডার ফেরান না, কোনো আইটেম মেনু থেকে বাদ দেন না, প্রতিটা প্ল্যাটফর্মে থাকেন। ফল: ক্লান্তি বাড়ছে, আয় বাড়ছে না। এই অধ্যায়ে আমরা তাঁকে একটা নতুন চশমা পরাব — যে চশমায় "সব অর্ডার" একরকম দেখায় না, বরং পরিষ্কার আলাদা হয়ে যায় কোনগুলো সোনা আর কোনগুলো বোঝা।
২. কেন ৮০/২০ নীতিই এই বইয়ের প্রথম অস্ত্র
আমরা ছোটবেলা থেকে একটা ভুল ধারণা নিয়ে বড় হই — ইনপুট আর আউটপুট সমানুপাতিক। দ্বিগুণ খাটলে দ্বিগুণ ফল, তিনগুণ সময় দিলে তিনগুণ আয়। এই ধারণাটা স্কুলের নম্বরে হয়তো খানিকটা খাটে, কিন্তু ব্যবসায় — আর আসলে জীবনের প্রায় সব জায়গায় — এটা ডাহা মিথ্যা। বাস্তবে সম্পর্কটা অসম (unbalanced): সামান্য কিছু কারণ থেকেই বেশিরভাগ ফল আসে; বাকি বিশাল অংশ থেকে আসে সামান্য।